শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কাটাতে পরিকল্পনা আসছে

0

রোনাভাইরাসের কারণে ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৬ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা আছে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধই থাকবে বলে ধারণা দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবার প্রাথমিকের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা হয়নি। ৯ থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও সে সম্ভাবনা আর নেই। ১৩ থেকে ২৫ জুনের মধ্যে মাধ্যমিকের অর্ধ-বার্ষিকী পরীক্ষা নেওয়ার কথা, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটাও আর হচ্ছে না।

গত বছরের ৩১ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হলেও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। স্থগিত হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা কবে থেকে শুরু করা যাবে সে বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও।

গত বেশ কয়েক বছর ধরে ঢাকা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে দেশের সরকারি-বেসরকারি সব কলেজের একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসছে। এবার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েও একাদশে ভর্তি কার্যক্রম পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে সংক্রমণ পারিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসার কারণে।

এজন্য ক্ষতির মুখে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা কাটিয়ে উঠতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার।

ভাইরাসের বিস্তার কমলে আগামী সেপ্টেম্বরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারে এমনটা ধরে নিয়ে এ পরিকল্পনার ছক তৈরি করা হচ্ছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তারা বলছেন, স্থগিত হয়ে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষা, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি, আসন্ন প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা, জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা, স্কুল-কলেজের বার্ষিক পরীক্ষা ও উপরের শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের কীভাবে প্রমোশন দেওয়া হবে সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে থাকবে ‘রিকভারি প্ল্যান’।

এ রিকভারি প্ল্যান তৈরির কাজ করছে কয়েকটি টিম। শিগগির এসব টিমের কাছ থেকে সুপারিশ নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর তদারকিতে এসব টিম কাজ করছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব বলেন, সামনের দিনগুলোয় মহামারী পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে কেউ জানে না। কিন্তু ভাইরাসের বিস্তার না কমলে স্কুল খোলা সম্ভব না। সেপ্টেম্বরে বিদ্যালয় খোলার মত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, তেমনটা ধরেই তারা পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন।

মুক্তিযুদ্ধের বছর শিক্ষার্থীদের অটো প্রমোশন দেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে একজন সচিব বলেন, “ওই সময় যারা অটো প্রমোশন পেয়েছিলেন, তাদের খুব বেশি সমস্যা হয়েছে বলে মনে হয় না। এখন শিক্ষক ও শিশুদের জীবনই আমাদের কাছে সব থেকে বড়।”

— সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Share.