যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের বাড়ি থেকে রাষ্ট্রীয় কিছু গোপনীয় নথি উদ্ধার হয়েছে। তিনিই বিষয়টি গত মঙ্গলবার নিশ্চিত করেন।
গোপন নথি নিজেদের কাছে রাখা নিয়ে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত চলার মধ্যেই নতুন এ তথ্য সামনে এল।
গত সপ্তাহে পেন্সের আইনজীবী ন্যাশনাল আর্কাইভস কর্তৃপক্ষকে জানান, ২০২১ সালে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পর সরকারি বাসভবন ছেড়ে আসার সময় ভুলবশত বাক্সে করে গোপনীয় নথিগুলো ইন্ডিয়ানার বাড়িতে এনেছিলেন পেন্স।
মঙ্গলবার পেন্স রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি পরিষদের পর্যবেক্ষক কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার এ তথ্য জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে কোমার বলেন, কংগ্রেসের তদন্তে তিনি পরিপূর্ণ সহযোগিতা করবেন। ওই সব নথিতে কী ধরনের তথ্য আছে কিংবা এগুলোর গোপনীয়তার মাত্রা কতটুকু, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত সপ্তাহে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে পেন্স নিজ বাড়িতে তল্লাশি চালানোর জন্য তার আইনজীবীকে বলেছিলেন। এরপর আইনজীবী পেন্সের বাড়িতে থাকা চারটি বাক্সে তল্লাশি চালান।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, মাইক পেন্স একজন নিরীহ মানুষ। তিনি জীবনে কখনও জেনেশুনে অসৎ কাজ করেননি। তাকে তার মতো করে থাকতে দিন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন বাইডেন। গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত মোট তিন দফায় বাইডেনের বাড়ি ও ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে গোপন নথি উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
প্রথম নথি উদ্ধারের ঘটনা ঘটে ওয়াশিংটনে বাইডেনের সাবেক ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে। এরপর ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যে তার বাড়ির গ্যারেজে পাওয়া যায় নথির সন্ধান। সর্বশেষ গত শনিবার একই বাড়ি থেকে আবার গোপন নথি উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার পর হোয়াইট হাউস ছেড়ে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে নিজ বাসভবনে যাওয়ার সময় সঙ্গে করে জাতীয় গোপনীয় নথি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, নথিগুলো ন্যাশনাল আর্কাইভের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ছিল। নিয়ম অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্টরা দায়িত্ব ছাড়ার সময় তা-ই করে থাকেন। ♦