জাপানে শুরু চার দেশের কোয়াড বৈঠক, নতুন জোটের ঘোষণা

0

জাপানের রাজধানী টোকিওতে আজ কোয়াডের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত নিয়ে গঠিত এ জোটের মূল উদ্দেশ্য চীনকে প্রতিহত করা।

উদ্বোধনী ভাষণে চীনবিরোধী বক্তব্য দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টোকিওতে তিনি স্পষ্ট বলেন, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে কোয়াড বা চতুর্দেশীয় জোট বদ্ধপরিকর।

কোয়াড সম্মেলনে যোগ দিতে গত সোমবার জাপানে পৌঁছান মোদি।

এবার কোভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধেও নেমেছে কোয়াড। ভারতের উৎপাদনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে গোটা বিশ্বে টিকা দিয়ে ‘টিকা কূটনীতি’তে বেইজিংকে টেক্কা দেয়ার পদক্ষেপ নিচ্ছে এই জোট।

মোদি বলেন, করোনা মহামারির নিদারুণ প্রকোপ সত্ত্বেও টিকার জোগান দিতে সমন্বয় গড়ে তুলেছি আমরা। শুধু তা-ই নয়, জলবায়ু পরিবর্তন, বিপর্যয় মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রেও একজোট হয়ে কাজ করেছে কোয়াড। ফলে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, সমৃদ্ধ ও স্থিতাবস্থা বজায় রয়েছে।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত রয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও সদ্যনির্বাচিত অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিজি।

কোয়াড সম্মেলনের আগে ইন্দো-প্যাসিফিকে চীনকে দুর্বল করতে ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর প্রসপারিটির (আইপিইএফ) ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এদিকে কোয়াড দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সংযোগে ক্ষুব্ধ বেইজিং জানায়, চীনকে কোণঠাসা করার জন্যই এই কৌশল। তাদের অভিযোগ, এই জোটটি ‘এশীয় ন্যাটো’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ন্যাটোর মতো কোয়াডের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কোনো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর নেই।

২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে সুনামির পর যাত্রা করে কোয়াড। সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে মানবিক ও দুর্যোগ সহায়তার জন্য চারটি দেশ একত্র হয়। ২০০৭ সালে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে কোয়াডকে একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দেন। ২০১৭ সালে গ্রুপটির পুনরুত্থান হয়। এরপর কোয়াড নেতারা ২০২১ সালে তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেন। 

Share.